Hot Posts

6/recent/ticker-posts

র‍্যাব বদলে হচ্ছে এসআরবি, নতুন আইনে আসছে বিশেষায়িত বাহিনী

 

র‍্যাব বদলে হচ্ছে এসআরবি, নতুন আইনে আসছে বিশেষায়িত বাহিনী

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকা

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করে আসা র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) নতুন কাঠামো ও নতুন নামে পুনর্গঠিত হতে যাচ্ছে। র‍্যাবের পরিবর্তে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এ লক্ষ্যে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর একটি খসড়া তৈরি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। খসড়াটির ওপর সাধারণ মানুষের মতামত নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

RAB-SRB
র‍্যাব বদলে হচ্ছে এসআরবি, নতুন আইনে আসছে বিশেষায়িত বাহিনী

পুলিশের অধীনে থাকবে এসআরবি

প্রস্তাবিত আইনে এসআরবিকে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে রাখার কথা বলা হয়েছে। বাহিনীটির সদর দপ্তর ঢাকায় থাকবে। প্রয়োজন অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন স্থানে এর ইউনিট স্থাপন করা যাবে।

এসআরবির নেতৃত্বে অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার একজন মহাপরিচালক থাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। সাংগঠনিক কাঠামোর প্রয়োজনে ব্যাটালিয়ন, কোম্পানি, প্লাটুন ও সেকশন গঠন করা যাবে।

অভিযান ও তদন্তের ক্ষমতা

খসড়া আইনে এসআরবির দায়িত্বের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, বিশেষ অভিযান পরিচালনা, গ্রেপ্তার ও তল্লাশির পাশাপাশি নির্দিষ্ট ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

অর্থাৎ নাম ও সাংগঠনিক কাঠামো পরিবর্তন হলেও র‍্যাবের বর্তমান কার্যক্রমের একটি বড় অংশ নতুন বাহিনীর অধীনে অব্যাহত থাকার প্রস্তাব রয়েছে।

জবাবদিহিতা ও অভিযোগ প্রতিকারে নতুন ব্যবস্থা

নতুন কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে সদস্যদের শৃঙ্খলা, অপরাধ ও শাস্তি এবং নাগরিকদের অভিযোগ প্রতিকারের বিষয়গুলোকে আইনের আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

খসড়ায় অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের বিধানও রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে নাগরিকদের অভিযোগ নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় পর্যালোচনা ও নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে।

র‍্যাবের সদস্য ও সম্পদের কী হবে?

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, র‍্যাবের বিদ্যমান সদস্য, স্থাপনা, অস্ত্র ও সরঞ্জামসহ বিভিন্ন সম্পদ নতুন ইউনিটের অধীনে যাওয়ার বিধান রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ কারণে সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ এটিকে পুরোপুরি নতুন বাহিনী গঠন না বলে র‍্যাবকে নতুন আইনি কাঠামোর অধীনে পুনর্গঠন ও নাম পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন।

কেন র‍্যাবের পরিবর্তন?

র‍্যাবের বিরুদ্ধে অতীতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুমসহ বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মহল থেকে বাহিনীটির সংস্কার বা বিলুপ্তির দাবি এসেছে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এলিট ফোর্সের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তবে নতুন আইনের মাধ্যমে বাহিনীর পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও মানবাধিকার সুরক্ষা আরও নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে। এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও জানিয়েছিলেন, র‍্যাবের বিদ্যমান আইন পরিবর্তন ও সংশোধন করে বাহিনীটিকে যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং নাম পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।



পোশাক, প্রতীক ও পতাকাতেও পরিবর্তন

নতুন বাহিনী হিসেবে এসআরবির জন্য আলাদা প্রতীক বা লোগো, পতাকা ও নির্দিষ্ট পোশাক রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে আইন চূড়ান্ত হয়ে কার্যকর হলে র‍্যাবের পরিচিত সাংগঠনিক পরিচয়ের পাশাপাশি বাহিনীর দৃশ্যমান পরিচয়েও পরিবর্তন আসতে পারে।

এখন কী হবে?

এখনও বিষয়টি আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত খসড়ার ওপর মতামত নেওয়ার পর প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পর্যালোচনা শেষে আইনটি চূড়ান্ত করা হতে পারে।

তাই র‍্যাবের পরিবর্তে এসআরবি নামটি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হয়েছে—এমনটি বলা ঠিক হবে না; বরং বর্তমানে এটি সরকারের প্রস্তাবিত আইন ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ।

বরেন্দ্রকণ্ঠ | জাতীয় সংবাদ

Post a Comment

0 Comments